প্রতিনিধি ১০ মে ২০২৬ , ৯:৩২:১৩ অনলাইন সংস্করণ
কে এম শাহীনুর রহমানঃ
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান। দাপ্তরিক কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও কপোতাক্ষ, বেতনা ও শালতা নদীর সংযোগ খালের অবৈধ নেটপাটা, বেঁড়িবাধ অপসারণ, কালভার্ট নির্মাণসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগাযোগ করা সহ ব্যাপক কর্মযজ্ঞ করে চলেছেন তিনি।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া, তালা সদর, খেশরা, জালালপুর, খলিলনগর, খলিসখালী, মাগুরা, নগরঘাটা ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল বর্ষা মৌসুমে প্লাবিত হয়। এরমধ্যে তেঁতুলিয়া ও খেশার ইউনিয়নের অধিকাংশ অঞ্চল প্রায় ৬ মাস পানিতে তলিয়ে থাকে। অধিকাংশ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্র ও উঁচু রাস্তার উপর তাবু ফেলে গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে। এসব মানুষের দূর্দশা লাঘবে এবার আগে থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান। অধিকতর জলাবদ্ধ এলাকার খালগুলো থেকে নেটপাটা অপসারণ করে করেছেন। অবৈধ ভাবে দখলকৃত খালগুলোর বেঁড়িবাধ কেঁটে অবমুক্ত করাসহ সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করায় ভুক্তভোগী এলাকার মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।
তালার শিরাশুনি, সুভাশিনী, পাঁচরোখী, জাতপুর, দধিসরা বিলের পানি সরানোর জন্য তালা-ডুমুরিয়া সীমান্তে ঘাটের খালের সংযোগস্থলে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে একটি বড় কালভার্ট নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই খালের সংযোগস্থল শালতা নদীর সাথে থাকায় ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের সাথেও মতবিনিময় করেছেন।
অফিস পরিচালনায় দক্ষতার নিদর্শন রেখে চলেছেন তিনি। সেবা প্রত্যাশীরা তার আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। একই সাথে তালা ও কলারোয়া উপজেলায় এসিল্যান্ড ও তালা ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের ডিজেল ও পেট্রোলের সংকট কালীন সময়ে তেল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ঝামেলা এড়াতে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে তিনি একজন করে সরকারী ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছিলেন। সে কারণে অনেক সমস্যা থেকে মানুষ মুক্তি পেয়েছে।
তালার রহিমাবাদ গ্রামের সাবেক সেনা কর্মকর্তা আয়ুব আলী, বারুইহাটির আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মান্নান, ভায়ড়া গ্রামের মুনসুর আলীসহ অনেকেই বলেন, জমি কেনা-বচার জন্য প্রায়ই আমাদের মিউটেশন করা লাগে। তবে এত অল্পদিনে কখনো করতে পারিনি। এসিল্যান্ড স্যারের কাছে যে কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সমাধান করেন। বড় ধরণের কোনো সমস্যা হলে প্রতি বুধবার গণশুনানির মাধ্যমে সমাধান করেন বলে জানান তারা।
মাদক কেনা-বেচা, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ও পরিবেশ দূষণ রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। তালার ২ টি ইট ভাটায় অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করেছেন। থানা পুলিশের সহায়তায় বাল্য বিবাহ ও মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর পরিশ্রম করছেন। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মেশিন দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করেছেন।
একান্ত স্বাক্ষাতকারে রাহাত খান বলেন, বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল খনন কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন। সে কারণে ডিসি স্যারের নির্দেশে খাল অবমুক্ত করণ ও রক্ষানাবেক্ষণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তালার বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী যা যা করা দরকার প্রাশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে। তবে এই সমস্যা সমাধানের জন্য সকল কে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জণগণ এগিয়ে না আসলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। সেবা প্রত্যাশীদের সহযোগিতা করা আমার সাংবিধানিক দ্বায়িত্ব। জন আকাঙ্ক্ষা ও যথাযথ আইন না মানায় ইটের ভাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধ করতে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে। কোনো ভাবেই আইন অমান্যকারীদের সাথে আপোষ করা হবে না। আমি বিশ্বাস করি, সকলের সহযোগীতায় তালা কে একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

















