প্রতিনিধি ২ মার্চ ২০২৬ , ৯:৪৮:৫১ অনলাইন সংস্করণ
কে এম শাহীনুর রহমানঃ
সাতক্ষীরার তালায় ভদ্রতার মুখোশের আড়ালে ডিসি ইউএনও’র নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে শত শত হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক জেলেখা বেগম। সে উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের আজিজুল শেখের স্ত্রী ও খলিলনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোড়ল সিরাজুল ইসলামের শালিকা। সে কোনো অফিসে কাজ না করলেও সারাদিন অফিস পাড়ায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। প্রায়ই উপজেলা পিআইও অফিস ও নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঘুর ঘুর করে বেড়ায় সে। তার এই অপকর্মের ছায়া সঙ্গী জালালপুর ইউপি’র সদস্যা ফিরোজা খাতুন। এই ২ জন মিলে পুরো উপজেলায় চষে বেড়ায় বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জুলেখা বেগম ও ইউপি সদস্যা ফিরোজা এলাকার সাধারণ ও দরিদ্র মানুষদেরকে সরকারী চাউল, টিন, নগদ টাকা সহ অন্যান্য বিভিন্ন সরকারী অনুদান পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবি সহ বিভিন্ন খরচের কথা বলে বড় অঙ্কের টাকা নেয়। এসময় সে বলে, সাতক্ষীরার জেলা প্রসাশক কিম্বা ইউএনওকে আমি যা বলি তাই হয়, তোমরা নিশ্চিত থাকো তোমাদেরকে যে সব জিনিস দেয়ার কথা ডিসি ও ইউএনও কাছে থেকে নিয়ে দেবো, তবে তোমরা যে জিনিস বা টাকা পাবা তার তিন ভাগের দুই ভাগ আমাদের দিতে হবে। গ্রামের সহজ সরল মানুষ তাদের কথা বিশ্বাস করে বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে দিলেও অনেকেই কোনো কিছু না হতাশ হয়েছেন। তারা টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দিয়ে বলে, কিসের টাকা?
একটি সূত্র জানায়, উপজেলা পিআইও অফিসের সোহেল ও মামুনের সাথে আছে তাদের গোপন সম্পর্ক। কেউ কেউ দাবি করছেন, এই মধুচক্রের সাথে আছে তাদের অনৈতিক সম্পর্ক। যার কারণে তারা এই চক্রকে টি আর, কাবিটা ও জিআর প্রকল্প পাইয়ে দেয় এবং মাসোয়ারা খায়। গত ২ মাস আগে হাজরাকাটি জামে মসজিদ ও শ্রীমন্তকাটি জামে মসজিদের নামে ১ টন করে জিআর প্রকল্পের চাল তারা মসজিদে না দিয়ে পিআইও অফিসের সাথে আতায়াত করে পুরেটাই ঝেড়ে দিয়েছে। তারা অসুস্থ মানুষকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দেওয়া, গরীব মানুষের ঘর বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় অনুদান নিয়ে দেওয়া, এমনকি বৃদ্ধ মানুষকে বয়স্কভাতার টাকা এনে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে সুকৌশলে বছরের পর বছর ধরে প্রতারণা করে এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা অত্মসাৎ করে যাচ্ছে এই জেলেখা ও ফিরোজা।
বারুইহাটী গ্রামের দিনমজুরের স্ত্রী পারভীনা, আটারই গ্রামের লিলিমা, রহিমাবাদের বৃদ্ধা রাবেয়া, তালা সদরের রাশিদা, রজব আলী ইসলামকাটি গ্রামের ক্ষান্ত বিবি, পরানপুর গ্রামের মইনুল ইসলাম সহ অনেকেই বলেন, আমাদেরকে সরকারী অনুদান পাইয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা পয়সা নিয়েছে। এখন তার সাথে কথা বলতে গেলে উল্টো গরম দেয়। জেলেখা, তার সৎ বোন লিলিমা ও ফিরোজা মেম্বরের সাথে মিলে তালা উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামের মৃত আনার আলী জমাদ্দার এর ছোট পুত্র বিদেশ ফেরৎ কোহিনুর জমাদ্দারের নিকট থেকে স্বর্ণের গহনা নগট টাকা সহ প্রায় ৩৪০০,০০০/- (চৌত্রিশ লক্ষ) টাকা অত্মসাৎ করেছে। যা এলাকার বেশীরভাগ মানুষ জানে। এখন সর্বশান্ত হয়ে এখন পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে।
তারা বলেন, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে জেলেখার বোন জামাই খলিলনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ক্যাডার সিরাজুলের ক্ষমতার দাপটে এসকল অপকর্ম করে পার পেয়ে যেতো কিন্তু বিগত সরকার বিদায় নিলেও এখনও প্রশাসনের নাকের ডোগায় বসে কিভাবে এই প্রতারণার ব্যবসা চালিয়ে যায় সেই প্রশ্ন ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর। প্রতারক জেলেখা ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার পূর্বক বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান তারা।
এর আগে এই চক্রটি দোহার এলাকায় টিউবওয়েল দেয়ার কথা বলে শতাধিক ব্যক্তির কাছে থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
অভিযুক্ত জেলেখা বেগম বলেন, জিআর প্রকল্পের যে চাল পেয়েছিলাম তা মসজিদে বুঝে দিয়েছে। টিন, চাল, বয়ষ্ক ভাতা দেয়ার কথা বলে কোনো টাকা নেয়নি। পিআইও অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন তিনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন দাম্ভিকতার সাথে বলেন, আমার নাম ভাঙ্গিয়ে যদি কেউ টাকা নেয় তাহলে ইউএনও বরাবর একটা লিখিত আবেদন করেন। তাহলে বিচার পাবে নইলে আমার সাথে অহেতুক কথা বলে লাভ হবেনা।

















