প্রতিনিধি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:৫৮:০২ অনলাইন সংস্করণ
কে এম শাহীনুর রহমান:
সাতক্ষীরার তালায় সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ইন্দ্রজীৎ দাশ বাপী’র মা অনিমা রাণী দাশ কে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তী করেছেন। তিনি জালালপুর গ্রামের মৃত্যু সন্তোষ দাশের স্ত্রী। এই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮ টায় উপজেলার জালালপুর গ্রামে নিজের দখলীয় জমির সুপারী গাছ থেকে সুপারী পাড়ার সময় এঘঠনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সকালে অনিমা রাণী শ্রমিক আবুল হোসেন কে নিয়ে সুপারী পাড়াতে গেলে আগে থেকে ওতপেতে থাকা জালালপুর গ্রামের মৃত্যু কেসমত কারিগরের ছেলে সিদ্দিক কারিগর (৪৫) ও তার ভাই হজরত কারিগর (৪২) হত্যার উদ্যেশ্যে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। অনিমা রাণী হাত দিয়ে ঠেকালে তার চোখের উপরে ও নীচে লেগে গুরুতর জখম হয় এবং সমস্ত শরীরে পিটিয়ে ফোলা জখম করে।
এরআগে গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরের দিন গভীর রাতে ৪৫ শতক জমির পানের বরজ কেটে মাটিতে মিশিয়ে দেয় এই চক্রটি। ৭ আগষ্ট সকালে জালালপুরের মৃত্যু কালিপদ দাশের ছেলে হরেকৃষ্ণ দাশ বরজে পানের গাছ কাঁটতে নিষেধ করায় তাকে কুপিয়ে জখম করে ও মেরে হাত ভেঙে দেয় এই সিদ্দিক ও রহমত। তাকে চিকিৎসা দিতে বাড়িতে ডাক্তার গেলে তাকেও মারধর করে। পরে রবিন দাশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে গেলে তাকেও মারধর করে আহত করে। এসময় এই অঞ্চলে বসবাসরত সংখ্যালঘুরা বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষ দর্শী জালালপুর গ্রামের পরিতোষ দাশের ছেলে হিমাদ্রি দাশ ও স্বরজিৎ দাশের ছেলে পল্লব দাশ বলেন, আমরা চিল্লাচিল্লি শুনে ঘটনাস্থলে এসে দেখি জালালপুর গ্রামের মৃত কেসমত কারিগরের ছেলে সিদ্দিক কারিগর (৪৫) হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে পিটাচ্ছে। এসময় সে অজ্ঞান হয়ে যায়। আমরা ঠেকাতে গেলে আমাদেরও মারধর করে। আমাদের সমস্ত শরীরে ব্যাথা অনুভব করছি। এরপর সকলে একত্রিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তী করি।
অনিমা রাণীর বড় ছেলে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ইন্দ্রজীৎ দাশ বাপী বলেন, আমি ব্যবসায়িক কাজে এলাকার বাইরে আছি। সেই সুযোগে আমার মা সুপারী পাড়াতে গেলে আমাদের পাশের পাড়ার মৃত্যু কেসমত কারিগরের ছেলে সিদ্দিক কারিগর (৪৫) ও তার ভাই হযরত কারিগর হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে ও পিটিয়ে জখম করে। অতীতে তারা ৫ আগষ্টের রাতে আমার ৪৫ শতক জমির পানের বরজ কেটে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিলো।
পরে ৭ আগষ্ট সকালে কাজ করবার জন্য হরেকৃষ্ণ দাশ গিয়ে দেখেন, সিদ্দিক কারিগর ও হযরত কারিগর আমার বরজের ঘেরা ও পানের গাছ কাটছে। হরেকৃষ্ণ দাশ নিষেধ করায় তাকে দা দিয়ে কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং দায়ের উল্টা পিঠের আঘাতে বাম হাতের কনুই এর নীচে ভেঙ্গে দিয়ে মাটিতে ফেলে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে অজ্ঞান করে ফেলে। তাকে চিকিৎসার জন্য গ্রাম্য ডাক্তার রনজিৎ চৌধুরী আসতে থাকলে ঐ সিদ্দিক কারিগর তাকে বাঁধা দেয় এবং মারপিট করে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। পরে রবিন দাশ ভ্যানযোগে হরে কৃষ্ণ দাশকে সাতক্ষীরা মেডিকেলে নেওয়ার পথে রবিন দাশকে বেধড়ক পিটিয়ে ফোলা জখম করেছিলো। সেসময় আমি তালা সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আবেদন করলে তাদের ভয়ে কিছুদিন শান্ত ছিলো। এখন তারা আবার অত্যাচার শুরু করেছে।

















