তালা

তালায় জমি নিয়ে বিরোধ, প্রবাসীর স্ত্রী কে মারধর করে কানের লতি ছিড়ে ফেলার অভিযোগ!

  প্রতিনিধি ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:১৯:০১ অনলাইন সংস্করণ

1-4064x3048-1-0-{}-0-12#

কে এম শাহীনুর রহমান:

সাতক্ষীরার তালায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রবাসীর স্ত্রী আমেনা বেগম (৪০) কে পিটিয়ে কানের লতি ছিড়ে ফেলা হয়েছে। এসময় তার ছোট  জা হাসনা হেনা মুন্নি (৩০) ও এসএসসি পরিক্ষার্থী কন্যা রিয়া আক্তার মারিয়াম কে বাঁশের লাঠি, মেহগনির ডাল দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ধুলান্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তালা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, আমেনা বেগমের কানের লতির অংশবিশেষ নাই ও প্রচুর রক্ত ঝরছে। ঘটনাস্থলে বাঁশের লাঠি ও মেহগনির ডাল পড়ে আছে। পরিধেয় কাপড়, ব্লাউজ ছেঁড়া এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে আছে। মুন্নির মুখসহ শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং কন্যা রিয়ার পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, বাড়ির পাশে জমিতে বেঁড়া দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আহাদ শেখের স্ত্রী আমেনা বেগমের সাথে মৃত্যু আমিন উদ্দীন শেখের ছেলে হাফিজুরের কথা কাঁটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। হাফিজুর ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার আমেনা বেগম কে বাঁশের লাঠি ও মেহগনির ডাল দিয়ে মারধর শুরু করে। এসময় আমেনার কানের দুল ছিড়ে নিতে গেলো তার কানের লতিসহ ছিঁড়ে আসে। তখন তার ছোট জা মুন্নি ও কন্যা রিয়া এগিয়ে আসলে তাদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়।

আমেনা বেগম বলেন, আমার স্বামী ও দেবর প্রবাসে থাকে। আমরা ২ জা ছেলে মেয়ে নিয়ে একই বাড়িতে থাকি। বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক না থাকার সুযোগে হাফিজুর জোর পূর্বক আমাদের দখলীয় জমিতে বেড়া দেয়। আমি প্রতিবাদ করলে হাফিজুর ও তার স্ত্রী জেসমিন আমাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করে। এসময় তার স্ত্রী জেসমিন আমার কানের ১০ আনা ওজনের সোনার দুল ও গলার ১ ভরি ওজনের সোনার চেইন টেনে ছিড়ে নেয়। আমার কানের দুলের সাথে কানের লতি ছিড়ে নিয়ে যায়। আমার জা মুন্নি ও এসএসসি পরিক্ষার্থী মেয়ে রিয়া এগিয়ে গেলে তাদেরও মারধর করে জা’র ১ ভরি ওজনের গলার সোনার চেইন ও ৪ ওজনের আংটি এবং মেয়ের গলা থেকে ১২ আনা ওজনের চেইন ও ৪ আনা ওজনের ১টি আংটি কেড়ে নেয়। এরপর লাঠি হাতে বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে আমাদের বাড়িতে আটকিয়ে রাখে। পরে থানা থেকে পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। আমরা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

‎অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান বলেন, জমিতে বেড়া ঘেরা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। তার কানের লতি কিভাবে ছিঁড়েছে বলতে পারব না। গলার চেইন, আংটি কানের দুল কেড়ে নেয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

‎তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, মারামারির ঘটনা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও খবর