তালা

তালায় আওয়ামী দূর্গে জামায়াতের হানা, লণ্ডভণ্ড বিএনপি!

  প্রতিনিধি ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:১২:১৩ অনলাইন সংস্করণ

কপোতাক্ষ টাইমস ডেক্সঃ

সাতক্ষীরার তালায় সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী দূর্গে জামায়াতে ইসলামী হানা দিয়ে লণ্ডভণ্ড করে ফেলেছে। যার কারণে নিজেদের দলীয় ভোটও ধরে রাখতে ব্যার্থ হয়েছে বিএনপি। জামায়াতের ভোটের কৌশলে ধরাশায়ী হয়েছে দলটি।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব  পরাজয়ের কারণ খুঁজতে শুরু করেছে রাজনৈতিক সচেতন মহল। গত ৫ আগষ্টে হাসিনা সরকারের পতনের পরে মাত্রা অতিরিক্ত চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, উপজেলা-ইউনিয়ন নেতাদের জনসমর্থন হীনতা, মবক্রেসি সর্বোপরি মিডিয়ার সাথে সমন্বয়হীনতাই  এর মূল কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক গণের তথ্য মতে, তালা উপজেলায় মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক আওয়ামী লীগের ভোট। এরপরে বড়দল জামায়াতে ইসলামী।  দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় না থাকা ও জামায়াতের সাথে দীর্ঘদিন জোটে থাকার সুযোগে বিএনপির ভোটের বড় একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়। আবার জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের দক্ষতা ও জনবান্ধন আচরণের কারণে আওয়ামী লীগের মুসলিম ভোটের একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়ে। সে ক্ষেত্রে তালা উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারের সরব উপস্থিতি বিএনপি শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কলারোয়া উপজেলায় বিএনপি কে পিছনে ফেলে জামায়াতে ইসলামী ভূমিধস বিজয় অর্জন করে।

‎নির্বাচন কমিশন হতে প্রাপ্ত ফালাফেল জানা যায়,  এবারের সংসদ নির্বাচনে তালা উপজেলায় বিএনপি জোট পেয়েছে ১০৫০৯৮ ভোট ও জামায়াত জোট পেয়েছে ৯৬৪৪২ ভোট। এই আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মোঃ ইজ্জত উল্লাহ ১৯৪৭২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব পেয়েছেন ১৬৯৯৯৫ ভোট।

‎মাঠপর্যায়ে  বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তালা উপজেলায় ধানের শীষ তুলনামূলক ভোট কম পাওয়ার জন্য উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বই দায়ী। উপজেলায় নেতৃত্ব দেয়া অধিকাংশ নেতার ওয়ার্ডে ধানের শীষ পরাজিত হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায় নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জমি দখল, গায়ের জোরে অন্যের গাছ কেটে নেয়া, টেন্ডারবাজি, নিজেই ২ টি খাদ্য বান্ধব ডিলারশিপ বাগিয়ে নেয়া, চাঁদাবাজির টাকায় ভাগ বসানো ও নিজ দলের কর্মীদের সাথে সমন্বয়হীনতা সুযোগে বিএনপির দূর্গে জামায়াতে ইসলামী হানা দিয়ে ভোটের ব্যবধান কমিয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম এর বাড়ির কেন্দ্র বিএনপির ঘাটি হলেও এবারের নির্বাচনে দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর ভাংচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজি বিরুদ্ধে জনরায় দিয়েছে। দলীয় কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে নিজের কেন্দ্র সহ ইউনিয়নে ভরাডুবি হয়েছে।

উপজেলার আরেক প্রভাবশালী নেতা ও ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন সমন্বয়কারী, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু সন্ত্রাসী বাহীনীর লুটপাট, চাঁদাবাজি, অগ্নি সংযোগ, ঘের দখল ও মবক্রেসী নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণে জনসমর্থন হারিয়ে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়েছে।

‎উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন ও তার বাহিনীর চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মবক্রেসীর কারণে নিজের ওয়ার্ড সহ ইউনিয়নে ভরাডুবি হয়েছে।

তালার খেশরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই ইউনিয়নের একটি মাত্র ওয়ার্ডে বিএনপির ভোট বেশী। উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান এস এম লিয়াকত হোসেনের বাড়ি এই কেন্দ্রে। চাঁদাবাজি ও মবক্রেসীর সুযোগে প্রতিপক্ষের হানা দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

‎উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মীর্জা আতয়ার রহমানের কেন্দ্রে সমন্বয়হীনতা ও উপজেলা জাতীয় পার্টির বর্হিস্কৃত সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় ধরাশায়ী হয়েছে। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইদুর রহমানের কেন্দ্রে একই কারণে ভরাডুবির কারণ।

‎বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে পাটকেলঘাটা বাজারে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির দূর্গে জামায়াতে ইসলামী হানা দিয়ে লন্ডভন্ড করে দেয়ার কারণে ধানের শীষ সুবিধা করতে পারেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেন, অদক্ষ, অগ্রহণযোগ্য ও জনবিচ্ছিন্ন নেতৃত্ব, দালাল, টেন্ডার সিণ্ডিকেট এবং প্রতিটি ইউনিয়নে চাঁদাবাজ বাহিনী গড়ে তোলায় পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়েছেন এই জনপ্রিয় নেতা। এই উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষ ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন না দিলে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হতো বলে জানান তারা।

আরও খবর