প্রতিনিধি ৩ এপ্রিল ২০২৬ , ৪:৫০:১৯ অনলাইন সংস্করণ
কে এম শাহীনুর রহমান :
সাতক্ষীরার তালায় রায়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম আবুল হাশেম শিবাঙ্গী বাছাড় নামে ২য় শ্রেণির এক ছাত্রীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। সে এই গ্রামের স্বজল বাছাড়ের মেয়ে। এঘটনায় ফুঁসে উঠেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক কে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন অবিভাবক সহ এলাকাবাসি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অংক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা দিতে না পারায় প্রধান শিক্ষক শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। এসময় তিনি ডান কানে থাপ্পড় মারলে রক্ত বের হতে থাকে এবং পিঠে স্বজরে চাড় মারায় পিঠে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। পরে মেয়েকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শিবাঙ্গীর মা দীপা সরকার জানান, স্কুল থেকে মেয়ের কান্নার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে মেয়ে কে কাঁদতে দেখি। তখন প্রধান শিক্ষক একটি চড় মারার কথা স্বীকার করেন। বাড়িতে এনে দেখি মেয়ের পিঠে আঘাতের চিহ্ন ও লাল দাগ রয়েছে। এমনকি কান দিয়ে রক্তও বের হচ্ছে এবং মুখে ফোলা দেখা যায়। পরে চিকিৎসার জন্য তালা হাসপাতালে নিয়ে যাই।
আহত ছাত্রী শিবাঙ্গী বাছাড় জানায়, স্যার আগে না জানিয়ে অংক পরীক্ষা নেন। আমি না পারলে স্যার আমাকে মুখে, পিঠে ও কানে মারেন।
প্রধান শিক্ষক জি এম আবুল হাশেম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীর গায়ে দুইটি চড় লেগে গেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ মন্ডল বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক কে এলাকাবাসী অবরুদ্ধ করে রেখেছিলো। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়ের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল রহমান বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। অভিযুক্ত শিক্ষক কে বদলি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















